Posts

Showing posts from October, 2025

#রম্যগল্প #বাচ্চাকাহিনী আমার ছোটবেলার বন্ধুরা খুব স্মার্ট ছিল। আমার মনে আছে আমরা এক কোচিং এ পড়তাম, সেখানে একজন স্যার ছিলেন এসেই বলতেন, “তোমরা আমার ছেলে মেয়ের মতো।” হঠাৎ, পেছন থেকে আমার এক ছোটবেলার বন্ধু সাব্বির বলতেছে, “স্যার তাহলে এই মাস থেকে আমি আর বেতন দিব না। ছেলে মেয়ের কাছ থেকে তো আপনি আর বেতন নিতে পারবেন না, তাই না?” সেই স্যার হাতের চকটি সোজা ছুড়ে মেরেছিলেন সাব্বির বরাবর আর আমরা সবাই একসাথে হেসে উঠেছি। আমাদের ছোটবেলার কথা মনে করতে করতে আমার মেয়ের কথা মনে এলো। একদিন সকালে ঠিক ৭ টায় ঘুম থেকে উঠে আমার ৭ বছরের মেয়ে খুব সিরিয়াস ভঙিতে ঘোষণা দিল— “আজ থেকে আমার নাম লেদী!” আমি তো একদম চমকে গেলাম। হাসব, না কাঁদব—কিছুই বুঝলাম না। কারণ তার নাম ফালাক্ক। ডাকনাম নাবিহা (নাবা)। অনেক শখ করে আকীক করে এই নাম রেখেছি। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “লেদী মানে কী?” সে একদম শান্তভাবে বললো— “লেদী (Ledig) মানে ফ্রি। আজ আমি কোনো কাজ করছি না, তাই আমার নাম আজ লেদী।” আমি ভাবলাম— শিশুর যুক্তি মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি! কোথায় ফালাক আর কোথায় লেদী! আরও মজার ব্যাপার— কয়েকদিন পর নতুন ঘোষণা— “আজ থেকে আমার নাম বেস্তেম্মা (bestemme)!” নরওয়েজিয়ান ভাষায় যার মানে—ডিসাইড করা আজ সে সব নিজেই ঠিক করবে তারপর থেকে প্রায়ই… একদিন অন্য নাম,আরেকদিন নতুন নাম। শেষ পর্যন্ত কোন নাম থাকে— আল্লাহ মালুম! আমার এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে গেছি। গিয়ে দেখি আমার বান্ধবী ওর ছেলে কে ভাত খাওয়াচ্ছে আর সে বাচ্চা ইউটিউব দেখছে। এই সময় ঘুম থেকে উঠে বান্ধবীর শাশুড়ি তার নাতি কে বলছে, “সারাদিন এইসব কি ইউটিউব দেখছ! ইউটিউব না দেখে খেতে চাও না? আমাদের সময় এগুলা ছিল না— আমরা কি না খেয়ে থাকতাম নাকি?” খাবারের প্লেট থেকে মুখ না তুলেই বাচ্চাটা বলছে, “এই জন্য তো তুমি বুড়ো হয়ে গেছ!” মোবাইলের ঘটনায় মনে পড়লো— আমার আরেক ভাগ্নি কে তার বাবা মানে আমার দুলাভাই বলছে, “এত মোবাইল দেখিস না, মাথা খারাপ হয়ে যাবে।” ভাগ্নি তার বাবা কে বলছে, “তুমি তো মোবাইল বেশি দেখ না, তোমার মাথা খারাপ হলো কিভাবে?” আমার মেয়ের ৫ বছর বয়সে আমরা নরওয়ে চলে আসি। সে বাংলার চেয়ে নরওয়েজিয়ান বলতে বেশি কম্ফোর্টেবল, যার ফল হিসাবে সে বাংলার অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যবহার করে। মরুভূমিকে সে বলে “মরুঘুমি”, আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে বলে “বিদ্যুম চমকা।” প্রথম যেদিন সে নরওয়ে এসে বাইরে বেড়াতে এসেছে, বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর ভয় পেয়ে বলতেছে— “মা! এই দেশের মানুষগুলো কোথায় মা??” আমি যে শহরে থাকি তার পপুলেশন মাত্র ২.৮ লাখ। সো মানুষজন খুবই কম। কিন্তু এরপর দেশে বেড়াতে গিয়ে সে বলতেছে— “এখানে কি হয়েছে! সবাই কেন আমাদের বাসার সামনে?” সে বুঝতেই পারেনি— নরমালই ঢাকায় একটা রাস্তার সামনে হাজার হাজার মানুষ থাকে। আমার মেয়ের বান্ধবী আন্না ঘোষণা করেছে এই ভার্শানের পৃথিবীটা তার বেশি ভালো লাগছে না, বোরিং লাগছে। তাই সে আরেকটু আপডেটেড ভার্শানের পৃথিবী চায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কি ধরনের আপডেট সে চায়, সে বলতেছে সে চায় তার পেট (বিড়াল) তাকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াক, যেমনটা এখন সে তার বিড়াল কে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যেহেতু সে বেশ ছোট বয়সে দেশের বাইরে চলে এসেছে, তাই বাংলাদেশের অনেক কিছুই সে ভুলে গেছে। তার মধ্যে একটা হলো রিকশা। এইবার দেশে গিয়ে সে মেশিন রিকশায় উঠেই কান্না শুরু করেছে— যেহেতু মেশিন রিকশা দমকা হাওয়ার বেগে চলে— “মা, এই গাড়িতে সিটবেল্ট নাই! মা হেলমেট নাই!” আমার ভাতিজি, ২ বছর বয়স, আমাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সারাক্ষণ বাইরে বাইরে ঘুরতে চায়। আমি তাকে অনেক কষ্টে বাসার ভেতরে ঢুকাতে রাজি করালাম, আমার সুন্দর নতুন বানানো দোতলা বাড়ি। সে আমাকে বলতেছে— “ফুপ্পি, এইটা আমার বাড়ি” আর পেছন দিকে ভাঙা একটা শনের ঘর দেখায় বলে— “ঐটা তোমার বাড়ি।” আশেপাশের সবাই ওর এই কাণ্ড দেখে হেসেই কুটিকুটি। তাকে রাতে জিজ্ঞেস করলাম, “রাতে দাঁত ব্রাশ করেছ?” সে বলে— “কালকেই না মাজলাম! আমার দাঁত রোজ ময়লা হয় না।” আমার বোনের ৪ বছর বয়সী মেয়ে তার ৭ মাস বয়সী ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেছে। ওর মা বলতেছে— “ডাকতেছ কেন? দেখছো না ঘুমাচ্ছে, চুপ করে বসে থাক।” আমার ভাগ্নি তার মাকে বলতেছে— “বাবু (মানে তার ভাই) উঠে গেলেই আমি চুপ করে বসে থাকব।” এই বাচ্চাটি বেশ শার্প, এখন বয়স ৭। সে লেফট হ্যান্ড। সো সে যখন খেতে বসে তার মা সবসময় খেয়াল করে সে ডান হাতে খাচ্ছে কিনা। তো একদিন তাকে ডাইনিং এ খাবার দিয়েছে আর ওর মা কিচেনে কিছু একটা করছিল। জিজ্ঞেস করল— “কোনটা দিয়ে খাচ্ছো?” সে উত্তর দিল— “মুখ দিয়ে মা।” তার মা যখন তাকে বলল— “তোমার মাথায় এত বুদ্ধি আসে কোথা থেকে?” সে বলতেছে— “মা, ডাউনলোড হয়ে আসে!” সে আমার সাথে বাইরে যাবে বলে রেডি হচ্ছে। আমি দেখলাম জামা পড়েছে উল্টো। আমি বললাম— “কি ব্যাপার টুকটুকি! ড্রেস কেন উল্টো পড়েছ?” সে বলতেছে— “না খালামনি, আমি উল্টো পড়িনি, ড্রেসটাই এমন ছিল। আমি শুধু ওর ইচ্ছা মত ঢুকে গেছি আর জোর জবরদস্তি করিনি।” আমি বললাম— “সে তো বুঝলাম, কিন্তু জামার হাতগুলো ভিজল কি করে?” সে বলতেছে— “আমার দোষ নাই তো, মা বলল হাত-মুখ ধুয়ে যেতে। হাতগুলো জামার ভেতরেই তো ছিল।” আমি পুরাই হতবাক তার বুদ্ধি দেখে। আমার মেয়ে Yellow বলতে পারতো না, বলতো Lelo। সো সে যখন Yellow এর বানান শিখলো, কোনভাবে তার মনে হয়েছে যা কিছু Y দিয়ে শুরু—তার উচ্চারণ হবে এল বা ল এর মতই। তার বাবা তাকে নিয়ে একটা Yo-Yo কিনে এনেছে, বক্সে নামের বানান লেখা YO-YO. দেখি সে এটাকে বলতেছে— “লো-লো।” তারপর সে যখন Orange বানান শিখলো (কালারের), টিচার যখন তাকে ফল হিসাবে Orange এর বানান শিখালো, সে খুবই অবাক— আমাকে বাসায় এসে বলতেছে— “মা জানো Orange যে ফ্রুটটা, সেটার স্পেলিংও একদম কালার Orange এর বানানের মতো!” আমার ভীষণ দুষ্টু কাজিন ফাইয়াজ কে তার দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হয়ে টিচার জিজ্ঞেস করলো— “তুমি কেন স্কুলে আসো?” সে নির্দোষ মুখে উত্তর দিল— “মিস, দুষ্টুমি করতে বাসার সবাই এখন খুব চালাক— আর বেশি সুবিধা করতে পারিনা। তাছাড়া রোজ সকালে মা ও বলে— ‘যা, আমার মাথা খেয়ে এসেছ, এখন মিসদের টাও একটু খেয়ে আয়।’ তাই চলে আসি। আম্মুই দিয়ে যায়।

http://dlvr.it/TP0MYM

বসন্তে বার্গেন, নরওয়ে

http://dlvr.it/TNyj0H

#তুই ছাড়া আমি তোকে ছেড়ে থাকার অনেক গুলো বছর হয়ে গেলো! কতগুলো বছর? অনেকগুলো, গুনিনা এখন আর প্রথম প্রথম গুনতাম, এক-দুই-তিন তারপর বুঝেছি, যতগুলো বছরই হোক না কেন তোকে ছেড়ে থাকার বেদনা যে আমার লক্ষ বছরের। আচ্ছা তোর ও এমন হয়! উদ্ভ্রান্ত পথিকের মত, তুই কী দিশেহারা থাকিস, আচ্ছা তোর ও একটু পরপর ভীড়ের মাঝে একা লাগে? আমি যখন পথে হাঁটি, তুই কী করে থাকিস পাশে? যখন ওপাশ ফিরে শুই, চুল টেনে কেন বুকের মাঝে নিস? আচ্ছা হারিয়ে গিয়ে ভাল আছিস তুই? আমার মত করে একাকীত্বের দীর্ঘশ্বাস শুনিস নাকি? তোর অকারন মন খারাপের দিনে আমি কি আজো তোর আনন্দের বিজ্ঞাপন হয়ে বাঁচি! নাকী কেবলই ফেলে আসার দিনের অসহায় আত্মসমর্পণ হয়ে থাকি? আমার সময়, আমার পথ আটকে গেছে তোর মাঝে, এই শহর, শহরের গলি ঘুপচি আরো বেশি গোলধাধায় ফেলেছে আমায়, আমার দমবন্ধ লাগে, যে শহরে আমার পাশে তুই নেই সে শহর টাকে আমার তছনছ করে দিতে ইচ্ছে করে তোর অদ্ভুত অভিমানী বাস্তবতাকে গুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে আমার বড্ড আজ, আমি জানি এখন আর আমার তুই কোথাও নেই, আমি জানি তোর আমিও আর স্বপ্নে নেই এখন, শুধু একটু আলোর মাঝে এই আমি, সেই তোর সাথে মুখোমুখি বসব বলে আরো অনেক গুলো বছর বাঁচি।

http://dlvr.it/TNyL8w

#বন্ধুত্ব "বন্ধু হবে আমার!" "আমরা তো বন্ধুই আছি" "উহু, এমন বন্ধু না" "তবে?" "আকাশের মত বন্ধু হতে চাই আমি তোমার" "সে কেমন?" "মেঘেরা যেভাবে বন্ধুত্ব করে আকাশের সাথে, কখনো ছেড়ে যায় না, গর্জন করে, অভিমান করে আবার কেদেঁকেটে বৃষ্টি ঝড়িয়ে গড়িয়ে পড়েও মুক্তি নেই, ঠিক ই ফিরে যায় আকাশের বুকে- হবে আমার অমন বন্ধু?" "বন্ধু হওয়া কী অতো সহজ!" "সে আমি জানিনা, তবে আমি তোমার বন্ধুত্ব চাই-প্রেম নয়" "কেন প্রেমে কী দোষ?" "প্রেম হলেই তোমায় চেয়ে বসব আমি, নির্লজ্জের মত অধিকার দেখাতে বসব- আমার বুকে ভেসে বেড়ানো মেঘের পালক নয় তখন তোমায় জড়িয়ে ধরতে চাইব আমি অধিকার নয় আমি তোমার স্বাধীনতা হতে চাই" "কিন্তু আমার যে তোমার উপর অধিকার চাই তোমার হাত ধরে হাটঁতে চাই, তোমার চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়াতে চাই" "ভয় হয় যদি ছেড়ে যাও, বন্ধু হলে অতো ভয় লাগবে না ছেড়ে গেলে কাদঁব কিন্তু মরে যাব না" "ছেড়ে যাব না, এত ভয় পাও কেন" "ভালবাসি যে" "কেন?" "তোমাকে ভালবাসতেই যে আমি জন্মেছিলাম" "তবে যে বন্ধুতা চাইলে!" "সাহস হয়নি, তোমায় চাওয়ার, ভেবেছিলাম বন্ধুত্বেই অন্তত বুক পেতে তোমাকে আগলে রাখি, তোমার কাছে থাকি" "আমার যে পুরোটা তোমাকে চাই, সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা আর হ্যা মাতাল হাওয়ার রাতে" "কেন পূর্নিমার রাত গুলোতে অন্য কাউকে চাইছ নাকি, আর বৃষ্টির রাতে?" "পাগল! একজীবনের প্রতি নিঃশ্বাসেই তোমায় চাই" "হু হু দুঃসাহস আছে মেয়ের, ওমন উড়নচণ্ডীকে কেউ চায় নাকি?" দুম করে বুকে কিল বসিয়ে তুমি বলেছিলে- "আমি চাই, শুধুই তোমাকে চাই" "কেন?" "এখনো বোঝ নি হাঁদারাম, ভালবাসি যে।"

http://dlvr.it/TNyDlJ

ক্ষমায় বাচুঁক ভালবাসা ভালবাসি...... এ ছাড়া আর কী ই বা বলতে পারতাম তোমাকে! অভিমান গুলো জমে জমে পাহাড় হয়ে গেছে, অভিশাপ দিতে গিয়ে দেখি পাহাড় ধ্বসে জলপ্রপাত, আমি ভেসে যাই সেই জলে, তোমাকে আর ঘৃণা করা হয় না- নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় ইদানিং, তোমাকে বরং অবজ্ঞাই করি অবজ্ঞার রঙ যে কালো সেই প্রথম জানলাম আমি, কালো মানেই অন্ধকার, কালো মানেই আলো নেই অন্ধকূপে তলিয়ে যাই আমি। একী বিষম তীব্র যন্ত্রনাবোধ! কাছে যাবার রাস্তা জানা নেই, দূরে যাবার পথ খোলা নেই, তোমাকে আমার ছোঁয়া হবে না কখনো, হাতে হাত রাখা পাপবোধ, পাপবোধ প্রেম নয়, তোমাকে ক্ষমা করে দেই নাহয়! তুমি আমার মহত্বই দেখ, কবিত্ব তোদেখেছ আশৈশব। কবি হয়ে জন্মেছিলাম তোমাকে ভালবাসব বলে, মহৎ হয়ে বলছি সত্যি ভালবেসেছিলাম, ক্ষমায় বেঁচে থেকো আর অর্ধজন্ম। #Sam

http://dlvr.it/TNyDdc

#মানুষ কেবল ই মানুষ ভেবো না-হয় না হিন্দু না মুসলমান, তিনি ই খোদা তাদের তোমার যিনি রাহমান। কোন ধর্মেই বলেনি জেনো মানুষের অপমান, শান্তি ই হোক এক ধর্ম মনুষ্যত্বে মহীয়ান। কাকে তুমি জ্বালাও পোড়াও, গড়েছ কী তুমি তারে? তোমারে গড়িয়াছেন যিনি, গড়িয়াছে যে তিনিই তাহারে।

http://dlvr.it/TNyDVX

কবিতা

http://dlvr.it/TNxcLd
http://dlvr.it/TNxFxz

জরিনার_দ্বিতীয়_বাসর

http://dlvr.it/TNx14f

ধারাবাহিক উপন্যাস নিয়তি/ পর্ব ১৬ (সমাপ্তি)

Image
  ডিবি অফিস, মিন্টো রোড — দুপুর ১টা ১০। বাইরে মৃদু বৃষ্টি। অফিসে আজ অন্যরকম হাওয়া। করিডোরে পুলিশ অফিসাররা ধীর গলায় কথা বলছে, কেউ কেউ তাকাচ্ছে সাদাবের দিকে — এমনভাবে, যেন সে এখন আর নিজের জায়গায় নেই।  তোমার রুমে একটা কাগজের ফাইলে তার মাঝে একট অফিসিয়াল চিঠি। — “ Case Transfer: Pulok Sen Murder / Hassan Missing – Handover to General Police. ” সাদাব টেবিলে বসে ছিল, মুখে নিরাসক্ত হাসি। এই কাগজটার মানে সে ভালো করেই জানে — এখন থেকে এই কেসে তার কোনো অফিসিয়াল অনুমতি নেই। কিন্তু ফাইলের ভেতরে এখনও তার ছোঁয়া আছে — রিপোর্টগুলো, ল্যাপটপের স্ক্রিনশট, আর জয়ার পেনড্রাইভে পাওয়া “ EchoMask ” ফোল্ডার। সবই এখন প্রমাণ — যা কেউ স্পর্শ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজে চায়। ঠিক তখন তার এক পুরানো বন্ধু সামনে এসে দাঁড়াল ফারজানা, সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ। তারা একসাথে ট্রেনিং করেই পুলিশে জয়েন করেছে। সাইবার ইউনিটে কাজ করার জন্য বিভিন্ন কেইসে সাদাব কে প্রায় ই ফারজানার হেল্প নিতে হয়। তাই আরো জমে উঠেছে এই বন্ধুত্ব। ১৫ দিনের ট্রানিং শেষে গত কাল ই চায়না থেকে ফিরেছে ফারজানা। আজ অফিসে জয়েন করেই সাদাবের অফিসিয়াল...

ধারাবাহিক উপন্যাস নিয়তি/ পর্ব ১৪ ও ১৫

Image
  চতুর্দশ পর্ব দিল্লির এক বেসরকারি ক্লিনিক। জয়া তার সন্তানকে নিয়ে অপেক্ষায়। ভেতরে একটি কেবিনে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ফিরে আসা হাসান শুয়ে আছে। জয়া এক মুহূর্তে দ্বিধায় পড়েছিল — সে কি সত্যি সত্যি প্রতিশোধ নিতে দিল্লি এসেছে, নাকি তার ভালোবাসাকে বাঁচাতে? হাসানকে এমন ভয়ঙ্কর অবস্থায় দেখে প্রতিশোধের আগুন যেন সামান্য স্তিমিত হয়ে এসেছে। এই দুইয়ের মাঝে জয়া সেন বা নন্দিতা ব্যানার্জী হিসেবে তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। সে এখন শুধুমাত্র একজন মা এবং তার সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের রক্ষাকর্ত্রী। হাসান এখন স্থিতিশীল, কিন্তু তার ডান চোখে ব্যান্ডেজ, আর বাম চোখটাও ফ্যাকাশে। জয়া ঢুকতেই হাসান ফিসফিস করে বলল, “ জয়া, তুমি ভুল পথে যাচ্ছো … এই খেলা অনেক বড়। ” তার কণ্ঠে অনুশোচনা নেই, আছে এক শীতল সতর্কতা। ডিবি সদর দপ্তর: T.R. এবং ডিজিটাল মুখোশ ঘড়িতে ১টা ৪২। ডিবি সদর দপ্তরের আলো নিভে গেছে, কেবল সাদাবের রুমটা জ্বলছে। টেবিলে তিনটি জিনিস — জয়ার রুমে পাওয়া পেনড্রাইভ, এক কাপ ঠান্ডা কফি, আর পুরনো ফাইল যার ওপরে লেখা “ Pulok Sen (Deceased) ” । বাইরে হালকা ঝড়, জানালার কাঁচে বৃষ্টির ছাপ নেই, কিন্তু বাতাসে বারুদের মতো গন্ধ।...

ধারাবাহিক উপন্যাস নিয়তি/ পর্ব ১২ ও ১৩

Image
  দ্বাদশ পর্বঃ ডিবির এএসপি সাদাব মোহাম্মদের কাছে কেসটা খুবই জটিল আর আকর্ষণীয় লাগছে। ডিবি পুলিশের এই তরুণ অফিসার কেসটা ভিন্ন আঙ্গিক থেকে সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন। তার অতীব আগ্রহের আরেকটা কারণ — হাসান ছেলেটি তার ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র। সাদাব জয়ার ফোন কলগুলো ট্র্যাক করতে গিয়ে দেখলেন, হাসানের নিখোঁজ হবার কিছুক্ষণ আগেও তার একটা নাম্বারে প্রায় ৩৫ মিনিট কথা হয়েছে, আর সেই নম্বরটি অতি আশ্চর্যজনকভাবে হাসানের এক্স গার্লফ্রেন্ড কান্তার। সাদাব দ্রুত কান্তাকে ট্রেস করার চেষ্টা করতে লাগলেন। কাকতালীয়ভাবে আজ সন্ধ্যায়ই কান্তার ফ্লাইট। সাদাব তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা আর স্পেশাল কিছু অনুমতির মাধ্যমে এয়ারপোর্ট থেকেই কান্তাকে আটক করলেন। কান্তাকে ইমিগ্রেশন থেকে বের করে এনে চিফ ম্যাজিস্ট্রেটের রুমে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। কান্তা আকাশ থেকে পড়লো যেন — “ আমার সাথে অবশ্যই জয়ার সেদিন কোনো কথা হয়নি। ” “ কিন্তু আপনার নাম্বারে জয়ার সাথে আপনার কথা হয়েছে, এই দেখুন আপনার কল লিস্ট, ” বলে একটা লম্বা স্লিপের মতো কাগজ এগিয়ে দিল সাদাব। কান্তা বিরক্তি নিয়ে কাগজটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল — “ এই নাম্বার আমি ইউজ ক...